মানুষ এখন এতটাই বিপন্ন যে, মানবজাতি ক্রমশঃ ধ্বংসের মুখে। সকল জীবকুলের সুখ সংশয় তো খুব তরল কথা, বলা ভালো জীবন সংশয়। হাজার হাজার উদাহরণ আছে এই নিয়ে, যুদ্ধ ও মানুষের নানা রকম গোঁয়ার্তুমিতে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আগ্রাসন, রেষারেষি, গেঁাড়া জাতীয়তাবোধ, ধর্ম ও জাতের ভুল ব্যাখ্যা নিয়ে রেষারেষি, পরিবেশ দূষণ, আকাশে ওজন স্তর নষ্ট হওয়া, সূর্যের আলট্রা ভায়োলেট রশ্মি আমাদের জীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত করছে। এদিকে প্রতিবেশী ও সংসারের একে অপরের সাথে সম্পর্কগুলিও কৃত্রিম হয়ে এসেছে। সবাই সবার কাছে অবিশ্বাসী। এর ফলে সর্বত্র বিপন্নতা গ্রাস করছে।
ঠিক এই সময়ে আমাদের বিশ্বকে স্থায়ীভাবে বিপদমুক্ত করতে এলেন নামহীন এক সাধারণ যুবক, মাইকেল তরুণ। ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিউজিল্যান্ডের অধিবাসী। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্যে সনম্মানিক স্নাতক হওয়ার পর Food & Beverage এর ওপর ডিপ্লোমা নিয়ে ১৯৯৪ সালে বিদেশে পাড়ি দেন চাকরির জন্য। ২০১৬ সাল অবধি ২৭ টি দেশের কোনটা ছুঁয়েছেন আবার কোনটা ভালো করে দেখেছেন, এভাবে তিনি বিভিন্ন দেশের মাঝে নানা রকম অসহায়তা লক্ষ্য করেন। এগুলি তার মনে জমা করে ছিল নানা রকম অনুভূতি। এদিকে একটা সময় তিনি ভারতে আসেন বেশ কিছুদিন থেকে যাওয়ার জন্য। অস্ট্রেলিয়ার চাকরীটা চলে যায়। ওই সময় তিনি অষ্ট্রেলিয়ার বাসায় ব্যালকনিতে বসে দূরে তাকিয়ে দেখছিলেন ছল ছল চোখ নিয়ে।
হঠাৎ করে তিনি বসে বসেই এসময় আবিষ্কার করেন, পৃথিবীতে স্থায়ী শান্তি আনয়নের পদ্ধতি। এটাই পরবর্তীকালে ‘Theory for Present World Peace..’ বা স্থায়ী বিশ্বশান্তি সূত্র এবং সেই ভিত্তিতে পৃথিবীর জন্মদিন পালনের উপলক্ষ্যে ‘ Earth and Art Revelution Day ’ ... ‘ পৃথিবী ও কলা বিপ্লব দিবস ’ -এর প্রবর্তন করেন। বেসরকারীভাবে প্রতি ১৫ ই জানুয়ারী। যেটি সারা বিশ্বে সরকারীভাবে প্রবর্তনের জন্য রাষ্ট্রসংঘে প্রার্থনা জানানো হয়েছে। এদিকে মাইকেল তরুণ এই কাজটিকে বিশ্বব্যাপী পৌঁছানোর জন্য আজও... জমানো টাকা, সম্পত্তি বিক্রি সহ আরো নানাভাবে প্রায় সাড়ে তিনকোটি টাকা ব্যয় করেছেন।
তাঁর এই কাজের জন্য বিভিন্ন সময়ে তাঁর এই চিন্তা ও কর্ম পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং কানাডার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীদের সমর্থন পত্র। পেয়েছেন রাষ্ট্রসংঘের সমর্থন পত্র ও শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্ত মহামান্য দলাই লামার আশীর্বাদ। একই সাথে অজস্র সংবাদ মাধ্যম আর কোটি কোটি জনগণের থেকে গভীর অাস্থা।
আমরা বলি আমরা বাবা-মা-আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া প্রতিবেশী সবাইকে ভালবাসি। কিন্তু জন্মলগ্ন থেকেই পৃথিবীর কাছে আমরা ঋণী। কিন্তু আমরা সেভাবে কোনদিনই কি নিয়ম করে পৃথিবীকে ভালবাসার কথা বলি ! মানুষ যখন পৃথিবীকে একান্ত আপন করে নিতে পারবে তখনই সম্ভব হবে স্থায়ী বিশ্বশান্তি। পৃথিবীকে ভালবাসাই স্থায়ী বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার পথকে সুগম করবে। এই স্বপ্ন দেখি, আমি, আপনি ও আমাদের মতো বিশ্বজুড়ে অগণিত মানুষ। আর সেই স্বপ্নকে সাকার করে তুলবে এই বিশ্বশান্তি সূত্র।
স্থায়ী বিশ্বশান্তি এলে পৃথিবীর মানুষ ভীষণভাবে উপকৃত হবেন। যা এই উপন্যাসের প্রধান উপজীব্য।
এছাড়া একজন প্রকাশকের তরফ থেকে যে যে বিষয়গুলি এই নিবেদন পত্রে উল্লেখ করার প্রয়োজন সেই সূত্রে ধন্যবাদ জানাই প্রচ্ছদ শিল্পী বিভাস বৈদ্য, প্রচ্ছদ ও পেন্সিল ড্রইং-এর শিল্পী রডরিক ফার্ণান্ডো ওরফে অভিজিৎকে এবং অবশ্যই সহলেখক দেবাশিস বন্দোপাধ্যায়কে। এনাদের প্রত্যেককেই কৃতজ্ঞতা জানাই মাইকেল তরুণের এই বলিষ্ঠ কর্মকাণ্ডের পাশে সহযোদ্ধা হিসেবে থাকার জন্য।
সবশেষে আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই বইটি শুধুমাত্র সাহিত্যগুণে নয় বিষয় বৈচিত্র্যেও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে আর সেইসঙ্গে লেখকের স্বপ্ন এবং উদ্দেশ্যকে সফল করে ভবিষ্যতে আরও অনেকে তাঁর এই আন্দোলনে সামিল হবেন।